তুষখালী নিউজমঠবাড়িয়ার খবর

লগডাউনের সুযোগে বলেশ্বরে জাটকা নিধনের মহোৎসব

করোনা দূর্যোগে উপকূলীয় মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদীতে অসাধু জেলেরা জাটকা নিধনে মহোৎসবে নেমেছে। এ ভাইরাসের লকডাউনের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ জেলেরা অবৈধ কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত বাঁধা জাল দিয়ে প্রকাশ্যে নদীতে ইলিশের জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোণা মাছ ধরলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে অসাধু জেলেরা দিন দিন ছোট মাছ নিধনে বেপরোয়া হয়ে ওঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়- উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১ইউনিয়নের বলেশ^র নদ তীরবর্তী ৫টি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়ন গুলিতে জাটকা মৌসুম শুরুতেই অবৈধ বাঁধা ও ছোট ফাঁসের কারেন্ট জাল নিয়ে জেলেরা বলেশ্বরে নেমে পড়ে। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১লা নভেম্বর (২০১৯ইং) হতে ৩০ জুন পর্যন্ত (২০২০) পর্যন্ত জাটকা ধরা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদপ্তর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় এ উপজেলায় ৫হাজার ৬শ’ বেকার জেলেদের মাঝে ২য় কিস্তি করে প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি করে মোট ৪শ’ ৪৮ মেট্রিক টন বিশেষ ভিজিএফ চাল প্রদান করে।
অভিযোগ রয়েছে তালিকাভুক্ত ওই জেলেদের অধিকাংশই সরকারী ওই চাল নিয়ে বলেশ্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট ও বাঁধাসহ ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। বিশেষ করে উপজেলার বলেশ্বর নদীর তুষখালী, বড়মাছুয়া, বেতমোর রাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া ও সাপলেজা ইউনিয়নের নদের বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল পেতে প্রতিদিন মনকে মন জাটকাসহ ছোট রেণু মাছ ধরছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- ছোট ছোট পোণা পঁচে যাওয়ায় মাছের স্তুপ গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে রাখছে। এছাড়াও এ সময়ে ওই সব এলাকায় গড়ে ওঠছে আড়ৎদার নামের কয়েকটি চক্র। এ প্রভাবশালী চক্রটি নিরিহ জেলেদের নদীতে মাছ ধরার আগে পিছনের সিরিয়াল বিক্রি নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। উপজেলার জানখালী গ্রামের দরিদ্র জেলে শাহজাহান হাওলাদার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাবেক এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় জাকির হোসেন নামের এক কথিত আড়ৎদার তার দীর্ঘদিনের দখলে থাকা তুলাতলা ঘাট সংলগ্ন নদীর খেওটি সাইলু নামের এক জেলের কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে তুলাতলা, কাটাখালী, পুরানখাল, খেজুরবাড়িয়া, বড়মাছুয়া, সাংরাইল, কচুবাড়িয়া, জলাঘাট ও খেতাছিড়া ঘুরে দেখা গেছে অবৈধ বাঁধা জালে ১০ ইঞ্চির নীচে ইলিশের জাটাকা, ১২ ইঞ্জির নীচে পাঙ্গাসের পোণা, বাগদাসহ তপস্বী মাছের পোণা।
তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- জাটকা ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সরকারী ভিজিএফ এর চাল নিয়েই অধিকাংশ জেলে অবৈধ জাল দিয়ে জাটকাসহ পোণা শিকারে নামে। অসাধু জেলেদের কারণে জাটকা রক্ষা পাচ্ছে না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হক জাটকা নিধনের কথা স্বীকার করে বলেন- চলতি মাসের ৮ এপ্রিল নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল আটক করা হয়েছিল। এরপর করোনা দূর্যোগ, নৌযান ও লোকবল সমস্যার কারণে আর অভিযান পরিচালনা করা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক সাংবাদিকদের জানান- নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল দিয়ে বলেশ্বর নদীতে জাটকাসহ ছোট পোণা নিধনের অভিযোগ শুনেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল, জরিমানাসহ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tags
আরও পড়ুন

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker