অন্যান্যবিনোদনমঠবাড়িয়ার খবর

তরুণ উদ্যোক্তারাই পারবে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে

করোনায় দূষিত হয়ে পড়েছে পুরো দেশ, পুরো বিশ্ব। থমকে গিয়েছে মানুষের এগিয়ে চলা। বিশেষ করে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, লকডাউন, হার্ড ইমিউনিটি, ভাইরাস আক্রান্ত, সুস্থ এবং মৃত্যু এই শব্দগুলোর দৈনন্দিন ব্যবহার মানব মনকে শুধু অস্থিরই করে তোলেনি বরং সৃষ্ট অনিশ্চয়তার দৃশ্যপট আমাদের শারীরিক-মানসিক অবস্থার ওপর মিশ্র প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কিন্তু, এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। পুরো বিশ্ব প্রথমবারের মত এ ধরনের মহামারির মোকাবেলা করছে। করোনাভাইরাস এখন শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, সারা বিশ্বের অর্থনীতিকেই নাড়া দিতে শুরু করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, সংক্রমণের এই হার দিন দিন আরো বাড়তে পারে। ফলে দেশে যে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা আরো গভীর হতে পারে। দেশে বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে। মানুষের আয়-উপার্জন ক্রমেই কমছে।

সরকার ও প্রশাসন এত উদ্যোগ নেওয়ার পরও জনগণের মধ্যে সচেতনতা ফিরে আসেনি। সরকার যতই করুক না কেন জনগণের মধ্যে সচেতনতা না আসলে এ যুদ্ধে কোনোভাবে জয়ী হওয়া যাবে না। যতটুকু বুঝেছি, এক কথায় এখন নিজের জীবন নিজের হাতে। আর এর জন্য মনোবল হচ্ছে সবচাইতে বড় শক্তি। সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এই করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প আর কোনো পথ খোলা নেই। একই সাথে করোনার শিক্ষা থেকে মানবিকতা, মমত্ববোধ, সহনশীলতা-অহিংসা শব্দ গুলোর অর্থ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। করোনার যেহেতু অনিশ্চিত ভবিষ্যত, তাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়া বা মৃত্যু ঝুঁকিকে মাথায় নিয়েই অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। কেননা- গত তিন মাসের স্থবিরতায় দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় চিত্র আমরা হারে হারে টের পাচ্ছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারখানায় কর্মী ছাটাই শুরু হয়ে গেছে, বেতন দিতে পারছে না, বোনাস ও বেতন ছাড়া রমজান ঈদ করতে হয়েছে অসংখ্য পরিবারকে। দীর্ঘমেয়াদে কর্ম স্থবিরতা আমাদেরকে অস্তিত্বকে সঙ্কটে ফেলে দিবে নিশ্চিত। কারণ এই বিশ্বমহামারির থাবায় উন্নত দেশগুলোর অবস্থাও বেশি খারাপ। তাই চরম বিপর্যয়ে সহায়তার আশাও তেমন একটা নাই। যেহেতু সারা বিশ্বে সমস্যা। তাই করোনাকে আমাদের অর্থনীতির আনুষঙ্গিক অনুষঙ্গ হিসেবে মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি হচ্ছে রপ্তানি আর রেমিট্যান্স খাত। সামান্য বিশ্লেষণে দেখতে পাই, বাংলাদেশের সবচেয়ে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত পোশাকশিল্পে নেমে এসেছে ধস। বাতিল হয়েছে বিলিয়ন ডলারের অর্ডার। অপরদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

রপ্তানি আয় কমে গেলে দেশের শিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া বা কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। অন্যদিকে আমাদের একটা বড় শক্তি রেমিটেন্স- যদিও প্রবাসী ভাই-বোনেরা আপ্রাণ চেষ্টা করবেন তবুও আগের মতো সাপোর্ট দিতে পারবেন না। দেখা গেছে, প্রবাসীরা টাকা পাঠানো কমিয়ে দিলে তাদের পরিবার দেশে আগের মতো খরচ করতে পারবেন না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসা বাণিজ্যে। কমে যাবে বেচাকেনা। চাহিদা কমে গেলে ভোক্তা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিভিন্ন পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় গত ৬০ বছরের মধ্যে এ প্রথম থমকে গেছে এশিয়ার অর্থনীতি। অপ্রত্যাশিত ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি ও সেবা খাত।

অথচ একটু পেছনে গেলে দেখবেন, বাংলাদেশ যখন উন্নত হচ্ছে মানুষের আয়-রোজগার বাড়তে শুরু করেছে। টাকার বিনিময়ে জীবন উপভোগের আধুনিক অনেক সুবিধাই পাওয়া যাচ্ছে। বেড়েছে শিক্ষার হার। প্রযুক্তির সুবিধায় আলোকিত জীবন উপভোগ করছিল দেশের মানুষ। ঠিক তখনি করোনার ছোবল আমাদেরকে গভীর অন্ধকারের অতলে হাবুডুবু খেতে হচ্ছে। এই হিংস্র অসভ্যতার কাছে আমরা কোণঠাসা হয়ে থাকলে চলবে না।

এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখাই হবে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
মনে রাখতে হবে, বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় যেন না ঘটে সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষ বেঁচে থাকলে আবারও উন্নতির ধারায় দেশকে ফেরানো যাবে। তবে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে বা আয়-উন্নতির ধারায় ফিরতে হলে অনিয়ম-দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে তাহলে মানুষ বাকি কাজটা নিজেরাই করে নিতে পারবে। করোনাভাইরাস সংকট অবসান হওয়ার পরবর্তীতে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াবে অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের সংকট। তারুণ্যনির্ভর দেশে এই সংকট মোকাবেলায় তরুণ সামাজকেই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আমি মনে করি, এ সংকট থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে ও স্বনির্ভর অর্থনীতি সৃষ্টি করতে এখনই তরুণদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান ও তরুণদের কারিগরি জ্ঞান ও কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে শিল্প বিপ্লবের জন্যে দেশের তরুণদের গড়ে তোলার এখনই সময়। তার কারণ, প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিশ্ব এখন জোর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে। বাংলাদেশও রয়েছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। এই ডিজিটাল যুগে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের বাদ দিয়ে বিকল্প চিন্তা করার কোনো উপায়ই নেই। কথাটা এ জন্যই বলছি যে, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়ানোর আগে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। দেশে বিপ্লবের জোয়ারে পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের কার্যক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এসব কাজের সাথে জড়িতদের অধিকাংশই কিন্তু তরুণ উদ্যোক্তা।

তাই আমি মনে করছি, করোনার ছোবলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশকে আবারো স্বর্নিভর বাংলাদেশে রূপান্তর করে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে পারে তরুণ উদ্যোক্তারাই।

লেখক :- মোঃ ইমরান হোসেন চেয়ারম্যান, মুত্তাকিন গ্রুপ। এডমিন:-উদ্যোক্তা মঠবাড়িয়া

আরও পড়ুন

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker