খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার

খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার

Leader

খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার (১৮৭৭ - ৮ মার্চ ১৯৮২) হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক। ১৮৭৭ সালে তিনি তত্কালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশালের পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার মিঠাখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হাতেম আলী ছিলেন মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৬৮ সালে মঠবাড়িয়া এলাকায় নারী শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। জনসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য তত্কালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৪ সালে তাকে খান বাহাদুর উপাধীতে ভূষিত করেন।    
  • Khan Hatem Ali Jamadar
  • Member of the Bengal Provincial Legislative Assembly
  • Date of Birth - 08.03.1877
  • Date of Death - 00.00.1982
  • Blood Group -
  • Sex - Male
  • Education -
  • Profession -
  • Present Address -
  • Permanent Address - P.O+Upazila: Mathbaria, Pirojpur
  • Contact Number :
         

খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগে জননন্দিত নেতা ছিলেন। তিনি ১৮৭৭ সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হেলাল উদ্দিন জমাদ্দার এবং  মাতার নাম সহর বানু। তাঁর পিতামহ ফরাজ উল্লাহ জমাদ্দার অষ্টাদশ শতাব্দী প্রথম ভাগে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া থেকে মঠবাড়িয়া এসে উত্তর মিঠাখালী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং সাপলেজায় প্রায় পাঁচশত একর ভূমি আবাদ করেন। হাতেম আলীর পিতার প্রতিষ্ঠিত মক্তবে লেখাপড়া শেষ করে পিরোজপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেনী পাশ করেন।  ইতোমধ্যে তিনি বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে পরিচিত হন এবং এ অঞ্চলের জনগণের সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ১০৫ বছর জীবিত ছিলেন। এর মধ্যে বাল্যকাল এবং মৃত্যুর পূর্বের একযুগ ছাড়া বাকী সবটাই ছিল কর্মবহুল। ১৯২০ সাল থেকে মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন বোর্ডের (বর্তমানে পরিষদ) চেয়ারম্যান, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের কৃষক প্রজা আন্দোলনে যোগদান করেন, পূর্ব বাংলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সদস্য, পরিচালক ও সভাপতি, মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায়ের ব্যাংকের সভাপতি, কে.এম. লতীফ ইনস্টিটিউশনের সেক্রেটারী, নিখিল বাংলা ঋণ সালিশী বোর্ডের সদস্য, এ অঞ্চলের ঋণ সালিশী বোর্ডের চেয়ারম্যান, বরিশাল জেলা বোর্ড ও শিক্ষা বোর্ডের সদস্য, ১৯৩৭ সাল থেকে বংগীয় আইন পরিষদ এবং তৎকালীন পূর্ব পকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য পদ অর্জন ইত্যাদি তাঁর পুরো জীবনটাই ঢেকে রেখেছে। তিনি ১৯২৬ সালে মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, মঠবাড়িয়ার খাসমহলের অফিসার আ. লতিফ চৌধুরী সহতায় ১৯২৮ সালে কে. এম. লতীফ ইনিস্টিটিউশন, ১৯৬৮ সালে হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ এ অঞ্চলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষক সমবায় সমীতি. রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণ করেন। জনসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তৎকালীন সরকার ১৯৩৪ সালে হাতেম আলী জমাদ্দারকে “খান সাহেব” উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগের তথা মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, বামনা, কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার অর্ধ শতাব্দীর জীবন্ত ইতিহাস।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের জাতীয় পরিষদে ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসন লাভ করে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান জনপ্রতিনিধিগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙ্গালি নিধন পরিকল্পনা “অপারেশন সার্চ লাইট” ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু করলে বঙ্গবন্ধু রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কাউন্সিল মুসলিম লীগ প্রধান খাজা খয়ের উদ্দিন এর নেতৃত্বে ৯ এপ্রিল ঢাকায় ১৪০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি শান্তি কমিটি গঠিত হয় এবং প্রত্যেক জেলা, মহকুমা, থানা ও ইউনিয়নে শান্তি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হয়।